অধ্যায় ২১
ভাষা ও ভাষারীতি
লেখ্য বাংলা ভাষার আদর্শ রূপ দুটি — সাধু ও চলিত। এদের বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য ও প্রয়োগ নিয়ে এই অধ্যায়।
সাধু রীতি
সহজ করে বুঝি
সাধু ভাষা হলো ভাষার আনুষ্ঠানিক পোশাক — গম্ভীর, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়া ও সর্বনাম লম্বা (করিতেছিল, তাহাদিগকে)।
একটা সোনালি নিয়ম: সাধু রীতিতে ধারাবাহিকতা রাখতেই হবে — একবার সাধু ধরলে পুরো লেখায় সাধু। মাঝপথে চলিত ঢুকলেই সেটা গুরুচণ্ডালী দোষ।
বৈশিষ্ট্য
- ক্রিয়া-সর্বনামের রূপ দীর্ঘ ও নিয়মনিষ্ঠ
- গুরুগম্ভীর; নাটকের সংলাপে অনুপযোগী
- উদাহরণ: তাহারা করিয়াছিল
নিজে চেষ্টা করো
একই লেখায় সাধু ও চলিত মিশলে কোন দোষ হয়?
চলিত রীতি
সহজ করে বুঝি
চলিত হলো আমাদের মুখের ভাষার লিখিত রূপ — সহজ, ছোট, প্রাণবন্ত (করছিল, তাদের)। এখন বই-পত্রিকা সবই এই রীতিতে।
প্রমথ চৌধুরী একে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা দেন। সাধুর মতো এখানেও এক রীতি ধরে রাখতে হয় — চলিত আর সাধু মিশে গেলেই গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
বৈশিষ্ট্য
- ক্রিয়া-সর্বনামের রূপ সংক্ষিপ্ত ও পরিবর্তনশীল
- সহজ; বক্তৃতা-সংলাপে উপযোগী
- প্রবর্তক: প্রমথ চৌধুরী (সবুজপত্র)
গুরুচণ্ডালী দোষ
একই রচনায় সাধু-চলিত মিশ্রণ।
- ভুল: ‘তিনি বাড়ি গিয়ে ভাত খাইলেন’
নিজে চেষ্টা করো
চলিত রীতিকে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা দেন কে?
পরীক্ষার ফাঁদ
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল; সাধু রীতি নিয়মনিষ্ঠ।
- সাধু-চলিত মিশ্রণ = গুরুচণ্ডালী দোষ।
মনে রাখার কৌশল
- সাধু: করিয়া/তাহার; চলিত: করে/তার।
সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন
- ১.সাধু = গম্ভীর, তৎসমবহুল, ক্রিয়া-সর্বনাম দীর্ঘ; চলিত = সহজ, ছোট, মুখের ভাষা।
- ২.চলিত রীতি প্রতিষ্ঠা: প্রমথ চৌধুরী (সবুজপত্র)।
- ৩.এক লেখায় সাধু-চলিত মিশলে গুরুচণ্ডালী দোষ।