বাংলা ব্যাকরণ — সূচিঅধ্যায় ১০ / ২১

অধ্যায় ১০

কারক ও বিভক্তি

বাক্যস্থিত ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনামের সম্পর্ককে কারক বলে। আর শব্দ/ধাতুর পরে যুক্ত অংশ যা সম্পর্ক নির্দেশ করে, তা বিভক্তি। কারক ছয় প্রকার।

ছয় কারক

সহজ করে বুঝি

কারক মানে বাক্যের ক্রিয়ার সঙ্গে কে কীভাবে জড়িত। ভয়ের কিছু নেই — ক্রিয়াকে প্রশ্ন করলেই কারক বেরিয়ে আসে।

‘কে করছে?’ → কর্তা, ‘কী নিয়ে?’ → কর্ম, ‘কী দিয়ে?’ → করণ, ‘কোথা থেকে?’ → অপাদান, ‘কোথায়/কখন?’ → অধিকরণ। নিচের চার্টটাই তোমার হাতিয়ার — মুখস্থ নয়, প্রশ্ন করেই উত্তর পাবে।

ছয় কারক — চেনার প্রশ্ন (এক নজরে)

কারকচেনার প্রশ্নউদাহরণ
কর্তৃকারককে? / কারা?ছেলেটি বই পড়ে
কর্মকারককী? / কাকে?ছেলেটি বই পড়ে
করণ কারককী দিয়ে? / কীসের দ্বারা?কলম দিয়ে লিখি
সম্প্রদান কারককাকে (দান/স্বত্বত্যাগে)?ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
অপাদান কারককোথা থেকে? / কী হতে?গাছ থেকে পাতা পড়ে
অধিকরণ কারককোথায়? / কখন?পুকুরে মাছ আছে

ক্রিয়াকে প্রশ্ন করলেই কারক বেরিয়ে আসে — এটাই MCQ সমাধানের সহজ কৌশল।

কর্তৃকারক ও কর্মকারক

  • কর্তৃ (যে করে): ‘ছেলেটি বই পড়ে’ — ছেলেটি
  • কর্ম (যাকে করা হয়): ‘বই পড়ে’ — বই

করণ ও সম্প্রদান

  • করণ (যন্ত্র/উপায়): ‘কলম দিয়ে লিখি’ — কলম
  • সম্প্রদান (স্বত্ব ত্যাগ করে দান): ‘ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও’ — ভিক্ষুক

অপাদান ও অধিকরণ

  • অপাদান (যা থেকে বিচ্যুত): ‘গাছ থেকে পাতা পড়ে’ — গাছ
  • অধিকরণ (স্থান/কাল/বিষয়): ‘পুকুরে মাছ আছে’ — পুকুর

কারক-বিভক্তির সম্পর্ক (এক নজরে)

এক কারক একাধিক বিভক্তি নিতে পারে — তাই আগে অর্থ ধরো
কারকপ্রশ্নসাধারণ বিভক্তি/অনুসর্গউদাহরণ
কর্তৃকে?শূন্য, -এ, -য়ছেলেটি বই পড়ে; বাঘে হরিণ খায়
কর্মকী? / কাকে?শূন্য, -কে, -রেবই পড়ি; তাকে ডাকো
করণকী দিয়ে? / কীসে?-এ, দ্বারা, দিয়াকলমে লেখো; কুড়াল দিয়ে কাটে
সম্প্রদানকাকে (দান)?-কে, -রে, জন্যভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও; দেশের জন্য
অপাদানকোথা থেকে?হতে, থেকে, -এগাছ থেকে পড়ে; বিপদে রক্ষা
অধিকরণকোথায়? / কখন?-এ, -য়, -তেপুকুরে মাছ; সকালে ওঠে

একই ‘-এ’ বিভক্তি কর্তৃ (বাঘে খায়), করণ (কলমে), অধিকরণ (পুকুরে) — তিন কারকেই বসে। তাই বিভক্তি নয়, ক্রিয়ার প্রশ্নই আসল।

কর্তৃকারকের প্রকারভেদ

প্রকারপরিচয়উদাহরণ
মুখ্য কর্তানিজেই ক্রিয়া করেরফিক বই পড়ে
প্রযোজক কর্তাযে অন্যকে দিয়ে করায়মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন (মা)
প্রযোজ্য কর্তাযাকে দিয়ে করানো হয়মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন (শিশু)
ব্যতিহার কর্তাপরস্পর ক্রিয়ারাজায় রাজায় যুদ্ধ
কর্মকর্তাকর্ম নিজেই কর্তা রূপেকাজলা দিদির বাঁশি বাজে

কর্মকারক — মুখ্য ও গৌণ (দ্বিকর্মক ক্রিয়া)

ক্রিয়ামুখ্য কর্ম (বস্তু)গৌণ কর্ম (ব্যক্তি)
শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেনবই (কী দিলেন?)ছাত্রকে (কাকে?)
মা শিশুকে দুধ খাওয়ানদুধশিশুকে
তিনি আমাকে গল্প শোনালেনগল্পআমাকে

দ্বিকর্মক ক্রিয়ায় বস্তুবাচক পদ মুখ্য কর্ম, ব্যক্তিবাচক পদ গৌণ কর্ম। গৌণ কর্মে সাধারণত -কে বিভক্তি।

নিজে চেষ্টা করো

‘বাবা আমাকে বই দিলেন’ — ‘আমাকে’ কোন কারক?

বিভক্তি

সহজ করে বুঝি

কারক হলো ভেতরের সম্পর্ক, আর বিভক্তি হলো তার বাইরের পোশাক — শব্দের লেজে জোড়া ছোট্ট চিহ্ন (এ, কে, র, তে)।

একই কারক আলাদা বিভক্তি নিতে পারে, তাই বিভক্তি দেখে সরাসরি কারক ঠিক করা বিপজ্জনক। আগে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক বের করো, বিভক্তি শুধু সাহায্যকারী সূত্র।

শব্দবিভক্তি

শব্দের পরে যুক্ত হয়ে কারক-সম্পর্ক বোঝায়; শূন্য (অ), -এ, -তে, -র/-এর, -কে, -য় প্রভৃতি।

  • ছেলেটি (শূন্য), বইকে (-কে), কলমে (-এ)

শব্দবিভক্তি তালিকা (প্রথমা–সপ্তমী)

বাংলা শব্দবিভক্তি ও তাদের চিহ্ন
বিভক্তিচিহ্নউদাহরণ
প্রথমা (শূন্য)০, -অছেলে বই পড়ে
দ্বিতীয়া-কে, -রেতাকে ডাকো; ছেলেরে বলো
তৃতীয়া-দ্বারা, -দিয়া, -এহাত দিয়া; কলমে
চতুর্থী-কে, -রে (নিমিত্তে)গরিবকে দাও
পঞ্চমী-হইতে, -থেকে, -চেয়েঘর থেকে; তার চেয়ে
ষষ্ঠী-র, -এররাজার; ছেলের
সপ্তমী-এ, -য়, -তেঘরে; নদীয়; জলেতে

ষষ্ঠী বিভক্তি (-র/-এর) কোনো কারক বোঝায় না — এটি সম্বন্ধ পদ (কারক-বহির্ভূত)।

নিজে চেষ্টা করো

কারক ঠিক করতে বিভক্তি না দেখে কী করা উচিত?

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ‘দিয়ে’ থাকলেই করণ নয় — অর্থ বুঝে কারক নির্ণয় করো।
  • সম্প্রদান কারকে স্বত্ব ত্যাগ থাকে; কর্মে থাকে না।

মনে রাখার কৌশল

  • কারক ৬: কর্তৃ-কর্ম-করণ-সম্প্রদান-অপাদান-অধিকরণ।

সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন

  • ১.কারক = ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য/সর্বনামের সম্পর্ক; ৬ প্রকার।
  • ২.কর্তা (কে), কর্ম (কী/কাকে), করণ (কী দিয়ে), সম্প্রদান (কাকে দান), অপাদান (কোথা থেকে), অধিকরণ (কোথায়/কখন)।
  • ৩.বিভক্তি = শব্দের লেজের চিহ্ন; আগে ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক বের করো, বিভক্তি সহায়ক।