বাংলা ব্যাকরণ — সূচিঅধ্যায় ১১ / ২১

অধ্যায় ১১

বাচ্য ও উক্তি

ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা, কর্ম বা ভাবের প্রাধান্য অনুযায়ী বাক্যের রূপকে বাচ্য বলে। আর কারও কথা প্রকাশের রীতিকে উক্তি বলে।

বাচ্য

সহজ করে বুঝি

একই কথা তিনভাবে বলা যায় — কে সামনে থাকে তার ওপর নির্ভর করে বাচ্যের নাম।

‘আমি ভাত খাই’ (কর্তা প্রধান = কর্তৃবাচ্য), ‘আমার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়’ (কর্ম প্রধান = কর্মবাচ্য), ‘আমার যাওয়া হবে না’ (ভাব/ক্রিয়া প্রধান = ভাববাচ্য)। কে প্রধান, সেটাই বাচ্যের নাম ঠিক করে দেয়।

চার প্রকার বাচ্য

  • কর্তৃবাচ্য (কর্তা প্রধান): ‘আমি ভাত খাই’
  • কর্মবাচ্য (কর্ম প্রধান): ‘আমার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়’
  • ভাববাচ্য (ভাব/ক্রিয়া প্রধান): ‘আমার যাওয়া হবে না’
  • কর্মকর্তৃবাচ্য: ‘কাজটি সহজেই হলো’

চার প্রকার বাচ্য — চিহ্ন ও উদাহরণ

বাচ্যপ্রধানকর্তার চিহ্নউদাহরণ
কর্তৃবাচ্যকর্তাশূন্য / -এছেলেটি ভাত খায়
কর্মবাচ্যকর্মদ্বারা / কর্তৃকতার দ্বারা কাজটি হলো
ভাববাচ্যক্রিয়া/ভাব-র / -এর (ষষ্ঠী)আমার যাওয়া হবে না
কর্মকর্তৃবাচ্যকর্ম কর্তার রূপেকর্ম নিজেই কর্তাবাঁশি বাজে; কাজটি হলো

একই কথা তিন বাচ্যে (রূপান্তর)

বাচ্যরূপ
কর্তৃবাচ্যআমি বইটি পড়ি
কর্মবাচ্যআমার দ্বারা বইটি পঠিত হয়
ভাববাচ্যআমার পড়া হয়

নিজে চেষ্টা করো

‘আমার দ্বারা কাজটি হলো’ — কোন বাচ্য?

উক্তি

সহজ করে বুঝি

কারো কথা দুইভাবে বলা যায় — হুবহু তার মুখের কথা, নাকি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে বলা।

উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে হুবহু = প্রত্যক্ষ (সে বলল, “আমি যাব”)। নিজের ভাষায় ঘুরিয়ে = পরোক্ষ (সে বলল যে সে যাবে)। রূপান্তরে সর্বনাম, ক্রিয়া আর কাল বদলায় — ওখানেই যত ফাঁদ।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি

  • প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, ‘আমি যাব।’
  • পরোক্ষ: রহিম বলল যে, সে যাবে।

প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃত হয়; পরোক্ষে পরিবর্তিত রূপে।

উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম

যা বদলায়প্রত্যক্ষপরোক্ষ
উদ্ধৃতি চিহ্ন‘ ’ থাকেওঠে, যোজক ‘যে’ বসে
সর্বনামআমি, তুমিসে, তাকে (বক্তা অনুসারে)
ক্রিয়া/কালবক্তার কালেপরিবেশ অনুসারে বদলায়
কালবাচক শব্দআজ, এখন, কালসেদিন, তখন, পরদিন
স্থানবাচকএখানে, এইসেখানে, সেই

নিজে চেষ্টা করো

প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তিতে সাধারণত কী কী বদলায়?

বাক্যের প্রকার ও গুণ

সহজ করে বুঝি

একটা ভালো বাক্য মানে শুধু কিছু শব্দ পাশাপাশি নয় — তার তিনটে গুণ লাগে: যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি।

মানে অর্থ যেন খাপ খায়, কথা যেন অসম্পূর্ণ না লাগে, আর শব্দগুলো যেন ঠিক ক্রমে বসে। গঠন অনুযায়ী আবার সরল-জটিল-যৌগিক — কয়টা ক্রিয়া/খণ্ডবাক্য, সেটা গুনলেই ধরা যায়।

গঠন অনুযায়ী

  • সরল (একটি সমাপিকা ক্রিয়া)
  • জটিল/মিশ্র (প্রধান + অধীন খণ্ডবাক্য)
  • যৌগিক (একাধিক স্বাধীন বাক্য, ‘ও/কিন্তু’ দিয়ে যুক্ত)

বাক্যের তিন গুণ

  • আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা

গঠন অনুযায়ী বাক্য (উদাহরণসহ)

প্রকারগঠনউদাহরণ
সরল বাক্যএকটি সমাপিকা ক্রিয়াসে এসে বসল
জটিল/মিশ্র বাক্যপ্রধান + অধীন খণ্ডবাক্য (যে/যদি/যখন)যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়
যৌগিক বাক্যএকাধিক স্বাধীন বাক্য (ও/কিন্তু/এবং)সে এল এবং বসল

নিজে চেষ্টা করো

সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ কী কী?

পরীক্ষার ফাঁদ

  • বাক্যের তিন গুণ — আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
  • কর্মবাচ্যে কর্তায় ‘দ্বারা/কর্তৃক’ বসে।

মনে রাখার কৌশল

  • বাচ্য ৪: কর্তৃ-কর্ম-ভাব-কর্মকর্তৃ।
  • বাক্যগঠন ৩: সরল-জটিল-যৌগিক।

সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন

  • ১.বাচ্য ৩(৪) প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, ভাব (কর্মকর্তৃবাচ্যসহ) — কে প্রধান তার ওপর নির্ভর।
  • ২.উক্তি ২ প্রকার: প্রত্যক্ষ (হুবহু, উদ্ধৃতি চিহ্নে) ও পরোক্ষ (‘যে’ দিয়ে)।
  • ৩.রূপান্তরে সর্বনাম, ক্রিয়া, কাল বদলায় — এখানেই ফাঁদ।
  • ৪.সার্থক বাক্যের ৩ গুণ: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা।