অধ্যায় ১১
বাচ্য ও উক্তি
ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা, কর্ম বা ভাবের প্রাধান্য অনুযায়ী বাক্যের রূপকে বাচ্য বলে। আর কারও কথা প্রকাশের রীতিকে উক্তি বলে।
বাচ্য
সহজ করে বুঝি
একই কথা তিনভাবে বলা যায় — কে সামনে থাকে তার ওপর নির্ভর করে বাচ্যের নাম।
‘আমি ভাত খাই’ (কর্তা প্রধান = কর্তৃবাচ্য), ‘আমার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়’ (কর্ম প্রধান = কর্মবাচ্য), ‘আমার যাওয়া হবে না’ (ভাব/ক্রিয়া প্রধান = ভাববাচ্য)। কে প্রধান, সেটাই বাচ্যের নাম ঠিক করে দেয়।
চার প্রকার বাচ্য
- কর্তৃবাচ্য (কর্তা প্রধান): ‘আমি ভাত খাই’
- কর্মবাচ্য (কর্ম প্রধান): ‘আমার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়’
- ভাববাচ্য (ভাব/ক্রিয়া প্রধান): ‘আমার যাওয়া হবে না’
- কর্মকর্তৃবাচ্য: ‘কাজটি সহজেই হলো’
চার প্রকার বাচ্য — চিহ্ন ও উদাহরণ
| বাচ্য | প্রধান | কর্তার চিহ্ন | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| কর্তৃবাচ্য | কর্তা | শূন্য / -এ | ছেলেটি ভাত খায় |
| কর্মবাচ্য | কর্ম | দ্বারা / কর্তৃক | তার দ্বারা কাজটি হলো |
| ভাববাচ্য | ক্রিয়া/ভাব | -র / -এর (ষষ্ঠী) | আমার যাওয়া হবে না |
| কর্মকর্তৃবাচ্য | কর্ম কর্তার রূপে | কর্ম নিজেই কর্তা | বাঁশি বাজে; কাজটি হলো |
একই কথা তিন বাচ্যে (রূপান্তর)
| বাচ্য | রূপ |
|---|---|
| কর্তৃবাচ্য | আমি বইটি পড়ি |
| কর্মবাচ্য | আমার দ্বারা বইটি পঠিত হয় |
| ভাববাচ্য | আমার পড়া হয় |
নিজে চেষ্টা করো
‘আমার দ্বারা কাজটি হলো’ — কোন বাচ্য?
উক্তি
সহজ করে বুঝি
কারো কথা দুইভাবে বলা যায় — হুবহু তার মুখের কথা, নাকি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে বলা।
উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে হুবহু = প্রত্যক্ষ (সে বলল, “আমি যাব”)। নিজের ভাষায় ঘুরিয়ে = পরোক্ষ (সে বলল যে সে যাবে)। রূপান্তরে সর্বনাম, ক্রিয়া আর কাল বদলায় — ওখানেই যত ফাঁদ।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি
- প্রত্যক্ষ: রহিম বলল, ‘আমি যাব।’
- পরোক্ষ: রহিম বলল যে, সে যাবে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃত হয়; পরোক্ষে পরিবর্তিত রূপে।
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম
| যা বদলায় | প্রত্যক্ষ | পরোক্ষ |
|---|---|---|
| উদ্ধৃতি চিহ্ন | ‘ ’ থাকে | ওঠে, যোজক ‘যে’ বসে |
| সর্বনাম | আমি, তুমি | সে, তাকে (বক্তা অনুসারে) |
| ক্রিয়া/কাল | বক্তার কালে | পরিবেশ অনুসারে বদলায় |
| কালবাচক শব্দ | আজ, এখন, কাল | সেদিন, তখন, পরদিন |
| স্থানবাচক | এখানে, এই | সেখানে, সেই |
নিজে চেষ্টা করো
প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তিতে সাধারণত কী কী বদলায়?
বাক্যের প্রকার ও গুণ
সহজ করে বুঝি
একটা ভালো বাক্য মানে শুধু কিছু শব্দ পাশাপাশি নয় — তার তিনটে গুণ লাগে: যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি।
মানে অর্থ যেন খাপ খায়, কথা যেন অসম্পূর্ণ না লাগে, আর শব্দগুলো যেন ঠিক ক্রমে বসে। গঠন অনুযায়ী আবার সরল-জটিল-যৌগিক — কয়টা ক্রিয়া/খণ্ডবাক্য, সেটা গুনলেই ধরা যায়।
গঠন অনুযায়ী
- সরল (একটি সমাপিকা ক্রিয়া)
- জটিল/মিশ্র (প্রধান + অধীন খণ্ডবাক্য)
- যৌগিক (একাধিক স্বাধীন বাক্য, ‘ও/কিন্তু’ দিয়ে যুক্ত)
বাক্যের তিন গুণ
- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা
গঠন অনুযায়ী বাক্য (উদাহরণসহ)
| প্রকার | গঠন | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সরল বাক্য | একটি সমাপিকা ক্রিয়া | সে এসে বসল |
| জটিল/মিশ্র বাক্য | প্রধান + অধীন খণ্ডবাক্য (যে/যদি/যখন) | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয় |
| যৌগিক বাক্য | একাধিক স্বাধীন বাক্য (ও/কিন্তু/এবং) | সে এল এবং বসল |
নিজে চেষ্টা করো
সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ কী কী?
পরীক্ষার ফাঁদ
- বাক্যের তিন গুণ — আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা।
- কর্মবাচ্যে কর্তায় ‘দ্বারা/কর্তৃক’ বসে।
মনে রাখার কৌশল
- বাচ্য ৪: কর্তৃ-কর্ম-ভাব-কর্মকর্তৃ।
- বাক্যগঠন ৩: সরল-জটিল-যৌগিক।
সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন
- ১.বাচ্য ৩(৪) প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, ভাব (কর্মকর্তৃবাচ্যসহ) — কে প্রধান তার ওপর নির্ভর।
- ২.উক্তি ২ প্রকার: প্রত্যক্ষ (হুবহু, উদ্ধৃতি চিহ্নে) ও পরোক্ষ (‘যে’ দিয়ে)।
- ৩.রূপান্তরে সর্বনাম, ক্রিয়া, কাল বদলায় — এখানেই ফাঁদ।
- ৪.সার্থক বাক্যের ৩ গুণ: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা।