অধ্যায় ৪

ণত্ব ও ষত্ব বিধান

তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে কখন দন্ত্য ‘ন’-এর বদলে মূর্ধন্য ‘ণ’ এবং দন্ত্য ‘স’-এর বদলে মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়, তার নিয়মই ণত্ব ও ষত্ব বিধান। খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে এই বিধান খাটে না।

ণত্ব বিধান

তৎসম শব্দে দন্ত্য ‘ন’ কখন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।

সহজ করে বুঝি

ভয় পেয়ো না — ণত্ব মানে শুধু ‘কখন দন্ত্য ন-এর বদলে মূর্ধন্য ণ বসবে’ তার নিয়ম।

একটাই চাবি মনে রাখো: ‘ঋ, র, ষ’-এর পরেই ণ আসে (ঋণ, বর্ণ, ভীষণ)। আর এটা শুধু তৎসম (সংস্কৃত) শব্দে — খাঁটি বাংলা বা বিদেশি শব্দে খাটে না।

ঋ, র, ষ-এর পরে ‘ণ’

তৎসম শব্দে ঋ, ঋ-কার, র, র-ফলা, রেফ ও ষ-এর পরে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।

  • ঋণ, তৃণ, বর্ণ, ব্রাহ্মণ, রামায়ণ, হরিণ, মৃণাল, ভীষণ

ট-বর্গের আগে ‘ণ’

  • কণ্টক, লুণ্ঠন, ঘণ্টা, কুণ্ডল, ষণ্ড

নিজে চেষ্টা করো

‘ঋ, র, ষ’-এর পরে দন্ত্য-ন কী হয়? একটি উদাহরণ দাও।

ষত্ব বিধান

তৎসম শব্দে দন্ত্য ‘স’ কখন মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়।

সহজ করে বুঝি

ণত্বের যমজ ভাই ষত্ব — কখন দন্ত্য ‘স’ না লিখে মূর্ধন্য ‘ষ’ লিখব, তার নিয়ম।

সবচেয়ে কাজের সূত্রটা মনে রাখো: ই/উ কিংবা ক-বর্গ-এর পরে ‘স’ প্রায়ই ‘ষ’ হয়ে যায় (নিষেধ, ভবিষ্যৎ)। আর বিদেশি শব্দে এই নিয়ম খাটে না — সেটাই বড় ফাঁদ।

অ-আ ভিন্ন স্বর ও ক/র-এর পরে ‘ষ’

তৎসম শব্দে ‘অ’ ও ‘আ’ ছাড়া অন্য স্বরের এবং ক ও র-এর পরে দন্ত্য ‘স’ মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়।

  • বিষ, ভূষণ, কৃষক, বর্ষা, মনুষ্য, অভিষেক, নিষেধ

ব্যতিক্রম

খাঁটি বাংলা ও বিদেশি শব্দে ণত্ব-ষত্ব বিধান খাটে না — যেমন ‘জিনিস, পোশাক, স্টেশন’।

নিজে চেষ্টা করো

‘নি, অভি, পরি’ উপসর্গের পরে ‘স’-এর কী হয়? উদাহরণ?

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ণত্ব-ষত্ব বিধান কেবল তৎসম শব্দে; খাঁটি বাংলা/বিদেশি শব্দে নয়।
  • ‘ঋ, র, ষ’-এর পরে ণ — এই তিনটি মনে রাখলেই ণত্ব সহজ।

মনে রাখার কৌশল

  • ণত্বের চাবি: ‘ঋ-র-ষ + ণ’।
  • ষত্বের চাবি: ‘অ-আ ছাড়া স্বর, আর ক-র-এর পরে ষ’।

সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন

  • ১.ণত্ব: ঋ, র, ষ-এর পরে দন্ত্য-ন → মূর্ধন্য-ণ (ঋণ, তৃণ, হরিণ, ব্যাকরণ)।
  • ২.ষত্ব: ই/উ এবং নি-অভি-পরি-প্রভৃতির পরে স → ষ (নিষেধ, অভিষেক, ভবিষ্যৎ)।
  • ৩.বিদেশি শব্দে ণত্ব-ষত্ব বিধান খাটে না — এটাই বড় ফাঁদ।